আমার প্রিয় লেখিকার মধ্যে একজন।

জুলফিয়া ইসলাম আমার প্রিয় লেখিকার মধ্যে একজন। তাঁর লেখনীতে মনস্তত্বের সুন্দর বিশ্লেষণ, জীবন যাপনের জটিলতা, জাগতিক স্বার্থ সংঘাত, বিশ্বাস-বিশ্বাসহীনতা, বন্ধুত্ব প্রেম ভালোবাসা ইত্যাদি তাঁর গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধে উঠে আসে। প্রথম যেদিন তাঁর লেখা বইগুলো পড়ি সেদিনই তাঁর ভক্ত হয়েগিয়েছিলাম। তাঁর লেখাগুলো পড়লে নিজের মধ্যে একটা ফিল অনুভব করি। অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো এমন গুণি লেখিকার সাথে দেখা করার। এবারের বইমেলায় সেই ইচ্ছেটা পূরণ হলো। বিদ্যা প্রকাশের স্টলে গিয়ে দেখা ও তাঁরই লেখা এবং অটোগ্রাফ সম্বলিত বইটি সংগ্রহ করলাম।

বইমেলা ঘুরতে ঘুরতে বিদ্যাপ্রকাশে এসেছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল। অনুরাগীদের ভিড়ে তার পছন্দের বইগুলো কিনেই নিয়েছিলেন।এর মাঝে যত্নসহকারে নিলেন আমার ” গল্প সমারোহ ” বইটি।জায়েদ আল হাসান,তিনি আর্ম ফোর্সেস মেডিকেল কলেজে কর্মরত একজন চিকিৎসক। প্রতিবছর বইমেলা থেকে আমার বই নিরবে সংগ্রহ করেন।এবার এলেন সরবে।কিনে নিলেন সবক’টি বই। তুললেন সেলফি।এসেছিলেন জাতিসংঘে কর্মরত নজরুল ইসলাম,তার সহধর্মিণী আমার উল্লেখযোগ্য বই ক’টি পড়েছেন। এভাবেই আজ বইমেলা ছিল লেখক, পাঠক ও প্রকাশকের আড্ডায় জমজমাট। এসেছিলেন কথাসাহিত্যিক মঈন আহমেদ,রেজা ঘটক,প্রাবন্ধিক জ্যোতি।ছিলেন লেখক সুইটি,লেখক পলাশ আহমেদ, শিশুসাহিত্যিক মীম নওশীন নাওয়াল সহ আরো অনেকে।সোহরাওয়ার্দি উদ্যান-২৪৩ থেকে ২৪৬। এই স্টল আজ মেতে উঠেছিল বই প্রেমিকের আড্ডায়।

গ্রন্হমেলা ২০১৫ এর একটি পোস্ট
“মূল্যবান উপহার”
এৃকুশে গ্রন্হমেলার দ্বিতীয় প্রহরে ছিলো উপচে পড়া ভিড়। ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ অল্পবয়সী একটি ছেলে এগিয়ে এসে আমার হাতে একটি প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে বলল, ম্যাডাম উপহারটি আপনার জন্য। বাসায় গিয়ে দেখবেন। স্টলের সবাই উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছেন প্যাকেটটির দিকে।বিদ্যাপ্রকাশের সত্তাধিকারী খোকা ভাই বললেন, বিদেশ হলে প্যাকেটটি সবার সামনে খোলা হতো এবং ছেলেটিকে ধন্যবাদ দেয়া হতো। আমি বললাম ধন্যবাদ দিয়েছি তবে খুলতে নিষেধ আছে। বাসায় গিয়েই খুলব। মঈন ভাই বললেন,নিষেধ যখন আছে নিশ্চয়ই এর মধ্যে কিছু আছে। সবার কৌতুহলের মাঝে নিজের কৌতুহল চেপে রাখতে পারলাম না। প্যাকেট খুলে দেখলামএকটি বই। বইটির নাম “অন্তঃসার শূন্য।’লেখকের নাম “অরণ্য আপন।”বইটিতে লেখা আছে,”শুভেচ্ছা জুলফিয়া ইসলামকে, যার বই পড়ে হাতে কলম ধরেছি।”আমি নির্বাক, পিয়াল খন্দকার বললেন,রেখে দেবেন যত্ন করে। “মূল্যবান উপহার।”
“পরম মমতায় Julfia Islam

মিলন মেলা ভাঙলো আজ। শেষ দিনেও মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত ছিল লেখকের পদচারণায়। জ.ই. মামুন কন্ঠ সৈনিক বুলবুল দিদি,লালা ভাই, রহীম শাহ,মঈন আহমেদ,আফজাল হোসেন,খোশরোজ সামাদ,জ্যোতি, মোস্তফা মঈনুদ্দিন,মীম,তাহেরা পারভীন,ব্যারিস্টার ফারাহ খান পিয়া,নাজমুন নাহার ইউনা। সহ আরো অনেকেরই উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল বিদ্যা প্রকাশ। প্রতিদিনই কিছু বই সংগ্রহ করেছি। শেষ মুহূর্তে কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা “এক ডজন একজন” বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর “আমার কুমার” “কৃষ্ণপক্ষে অগ্নিকান্ড” কবি পিয়াস মজিদের “ক্ষুধা ও রেস্তোরাঁর প্রতিবেশি”কাজী রাফির “আটলান্টিকের পড়ন্ত বিকেল” জোহরা বেগমের “উষসী”সংগ্রহ করলাম। বের হওয়ার পথে দেখা হল বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত জনপ্রিয় সায়েন্স ফিকশন লেখক,মোশতাক আহমেদের সঙ্গে। তিনি অনিন্দ্য প্রকাশের সামনে দাঁড়িয়ে ভক্তদের অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন। চানাচুর, কফি ও ফটোশেসনে আড্ডার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এভাবেই ধীরে ধীরে কিছুটা বিষাদের অনুভূতি আর সুন্দর আগামির প্রত্যাশায় ত্রিশ দিন অতিবাহিত বইমেলা সাঙ্গ হল।

Leave a Reply

Quick Navigation
Facebook32
YouTube379
×
×

Cart